dec

খনন চলছে

খনন চলছে৷ প্রতিনিয়ত৷ ঘরেবাইরে, অন্দরেকন্দরে, সামনেপিছনে, সমাজেসংসারে—সদাসর্বদা৷ খোঁজ জারি রয়েছে কোনো প্রাচীন সভ্যতার উৎস সন্ধানের৷ মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, হাজার-হাজার বছর আগে টিকে থাকা, বর্তমানে নামমাত্র চিহ্ন না-থাকা সভ্যতার খোঁজের কী দরকার৷ কী দরকার তার জীবনযাত্রা, আচারব্যবহার, ভাষা-লিপি সম্পর্কে জেনে৷ বরং অতীতের খোঁজ না-করে বর্তমানে যা আছে তার ওপর ভিত্তি করেই চেষ্টা করা যায় না নতুন কোনো সভ্যতা গড়ে তোলার৷ তৈরি করা যায় না নতুন কোনো সমাজসংস্কৃতি৷ বানানো যায় না নতুন কোনো লিপি৷ অলীক স্বপ্নের পেছনে দৌড়ে লাভ কী! লাভ কী জানতে চেয়ে পেছনে-ফেলা জীবনের দিনচিত্র৷ আসলে অতীতকে অস্বীকার করে বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো অস্তিত্বই নেই৷ তাদের তিনজনের যৌথ সংসারে প্রত্যেকেই তারা পরের তরে—যে-কোনো একজনকে বাদ দিলেই বাকিরা তো ভারসাম্যহীন, দুর্বল, নড়বড়ে৷ কারণ আজকে যা বর্তমান কালকে তা অতীত হবে, আজকের ভবিষ্যৎ কালকের বর্তমান হবে৷ এবং কালক্রমে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের স্থানবদল ঘটে চলবে যতদিন এ পৃথিবীতে সময়ের চাকা ঘুরবে৷ চরকায় তকলি কাটতে-কাটতে বুড়ি যেদিন থামিয়ে দেবে হাত ঘোরানো সেদিন চিরতরে থেমে যাবে সময়ের ছটফটানি অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের স্থানবদল৷ তখন সবই অতীত৷ আর তাই বহতা সময়ে যে-জিনিসগুলি আমরা দেখতে পাচ্ছি বা যা আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে তা আমরা ধরে রাখতে চাই ভবিষ্যতের জন্য—ছাপা অক্ষরে বইয়ের পাতায়৷ ‘হরপ্পা’ নামটি প্রতীক মাত্র৷